ব্রেকিং নিউজ
২৬৪১৪

ফরজ হজে বিলম্ব নয়, প্রস্তুতি শুরু হোক এখনই

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ উপলক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের হজের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ৭ জুন জারি করা রোডম্যাপে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ও বেসরকারি সব অংশীজনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২৭ সালের হজের জন্য ১ জুলাই থেকে প্রাক্‌-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সৌদি সরকারের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখেন—এমন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। সামর্থ্য হওয়ার পর হজ দ্রুত আদায় করা ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছে করেছে, সে যেন তা তাড়াতাড়ি করে নেয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৭৩২)

আগামী হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সৌদি আরব সময়ভিত্তিক যে নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশের প্রচলিত হজ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী হজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পরবর্তী বছরের প্রায় সব প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। ফলে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে হজে যাওয়ার যে রীতি এত দিন প্রচলিত ছিল, তা আর কার্যকর থাকবে না।

আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত শেষ মুহূর্তে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ আর নেই, জুলাইয়ের মধ্যেই তাঁবু বুকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। অথচ তখনো যদি হজযাত্রীর সংখ্যা চূড়ান্ত না হয়, তাহলে পরিকল্পনা ও অর্থায়ন—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হবে। ফলে বিগত বছরগুলোর মতো, এবারও হজযাত্রীর সংখ্যা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ হজ পালন করলেও ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৫০০ জনে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন। ২০২৭ সালের জন্য এখনো নতুন কোটা নির্ধারণ হয়নি। বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রীর কোটা পেয়ে থাকে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তির সময় নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ টানা চার বছর ধরে হজের নির্ধারিত কোটা পূরণে ব্যর্থ। উচ্চ খরচের কারণে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি হজ মৌসুমেই কোটার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধন করতে পারেননি।

খরচ বাড়ায় এবং হজ ফরজ হওয়ার পর ওমরাহকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেও হজযাত্রী কমছে। যদিও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়, তখন তাঁর ওপর অবিলম্বে হজ আদায় করা ফরজ হয়ে যায়; তখন আর দেরি করা জায়েজ নেই।

ইসলামি স্কলারদের পরামর্শ হলো, যদি কারও ওপর হজ ফরজ হয়ে থাকে, তবে তাঁর উচিত সবার আগে ফরজ হজ আদায় করার জন্য পরিকল্পনা করা। হজের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং দ্রুত তা সম্পন্ন করা। হজ সম্পন্ন করার পর যদি সামর্থ্য থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে ওমরাহ পালন করা অনেক পুণ্যের কাজ।

মতামত জানান:

???

????

?????

??????????

?????

??????????

?????

??????????

?????

??????????